Kolkata, West Bengal
+91 8972247306 / +91 7001439758
northeasttravels2008@gmail.com

Bandhavgarh Experience

Bandhavgarh Experience

67447709_1394635617370827_7096113497225822208_n

Mr. Debraj Ghosh

Self Employed and a hard core wildlife lover

He shares his experience why he loves to travel with the most experienced wildlife tour organizer

 

#বান্ধবগড়_জাতীয়_উদ্যান

বছর ২০ আগের কথা।
ক্লাবে বসে আড্ডা দিতে দিতে প্ল্যান করছি বন্ধুরা মিলে কোথাও ঘুরতে যাবো।কেউ বলে পাহাড় তো কেউ বলে সমুদ্র।আমি বললাম পাহাড় সমুদ্র তো সবাই যায় তার চেয়ে বরং চল একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা করি।
কোনো এক জঙ্গলের ফরেস্ট রেস্ট হাউসের ব্যাবস্থা করি,যেখানে পশুদের থাকবে অবাধ বিচরণ আর আমরা থাকবো ঘেরাটোপের মধ্যে।
যেখানে সন্ধ্যে নামার পর আলো জ্বলবেনা, রান্না হবে কাঠের জ্বালে,যেখানে শহরের কোলাহল থাকবেনা,গাড়ির ভ্যাঁ ভ্যাঁ হর্ন থাকবেনা,থাকবো শুধু আমরা আর জীবজন্তু, সাথে থাকবে মুক্ত আকাশ।

আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই লাল্টু দা (পাড়ার এক সিনিয়র দাদা,ভারী মজার লোক) বলে উঠলো বন্ধুরা মিলে যখন জঙ্গলের প্ল্যান করছিস তাহলে মধ্যপ্রদেশের বান্ধবগড় জঙ্গলে যা,সেখানে বাঘের চাষ হয়।আমরা বুঝে গেছি লাল্টু দা আমাদের পিছনে লাগছে।
আমাদের মুখ চোখ দেখে লাল্টু দা নিজেও বুঝতে পেরে বললো তোরা কি ভাবছিস আলু পটলের মতো বাঘ চাষ হয় নাকি,ওখানে বাঘের সংখ্যা এত বেশি যে না চাইলেও দেখতে হবে।তোরা থাকবি গাড়িতে আর বাঘ হেঁটে হেঁটে ঘুরবে।কথাটা শোনামাত্রই ঠিক করেছিলাম বান্ধবগড় একদিন আমাকে যেতেই হবে।
সেই থেকে মনে বাসনা নিয়ে বসেছিলাম।
সুন্দরবন কুলডিহা ভিতরকণিকা পালামৌ রন্থমবর করবেট মানস সাতকোশিয়া পেঁঞ্চ কানহা তাড়োবা ঘুরে শেষমেশ বান্ধবগড় টা আমার হলো।

শেষ কিছু বছরে অনেক জঙ্গল ভ্রমণ আমি করেছি।
তবু মনেহয় আমি এত বছরেও জঙ্গলকে ভালোভাবে চিনে উঠতে পারিনি।যখনই যাই জঙ্গল নতুন কিছু প্রশ্ন নিয়ে আমার সামনে হাজির হয় আর আমি যে কিনা নিজেকে এতদিন ধরে বেশ পন্ডিত ভাবছিলাম সে আবার বোকা বোকার মতো নতুন করে সবকিছু শিখতে শুরু করি।
তবে টাইগার সাইটিংয়ের দিক থেকে জঙ্গল কিন্তু আমাকে কখনো নিরাশ করেনি।এখোনো পর্যন্ত স্ট্রাইক রেট ১০০% ☺️☺️
তবে একটা বিষয়ে আমার ভীষণ আক্ষেপ ছিলো।
আমি
রন্থমবরে মাছলি (প্রথম সাইটিং আমার,২০১২)
করবেটে পারো
পেঁঞ্চে বারাস (দুর্গার ৩ টে বাচ্ছা কেও দেখেছি)
কানহা তে চিন্টু (কোপেদাদরির বাচ্ছা)
তাড়োবাতে মায়া আর তার দুই বাচ্ছা,ছোটি মধু,সোনামের বাচ্ছা,মাধুরীর বাচ্ছা দেখলেও ফুল গ্রোন মানে ডমিনেন্ট মেল টাইগার কোথাও দেখিনি।
তাড়োবাতে মটকাসুর আর ছোটা মটকা কে দেখলেও বেশ অনেকটা দূর থেকে দেখেছিলাম।
তাই এইবারের বান্ধবগড় ট্রিপেও সেই ইচ্ছাটা অব্যাহত ছিলো।
এই ট্রিপে আমার মোট ৭ টা সাফারি ছিলো।
৩ নং সাফারি করে ফেরার সময় দুর্গেশ (আমাদের ড্রাইভার) একটা জায়গায় গাড়ি দাড় করিয়ে বললো এই এলাকাটা হলো বামেরা সনের। ৯ বছর বয়স,ডমিনেন্ট মেল টাইগার।কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম এক পাথরের ফাঁক দিয়ে ওপরে উঠে নজরের বাইরে চলে যাচ্ছে।সাইজ টা অনুমান করতে পারলেও মন ভরলোনা।ভাবলাম ছোটা মটকা কেও তো আমি এই ভাবেই দেখেছি।
যাইহোক পরেরদিন বিকালের সাফারি করছি টালা জোনে,একদম ড্রাই চলছে সাফারি।ঠিক এমন সময় খবর এলো সামনের জলাশয়ে টাইগার দেখা যাচ্ছে,কিন্তু অনেক দূর থেকে।আমরা ঠিক করলাম কিছুই যখন পাচ্ছিনা তখন ওখানেই যাই।পৌঁছে বুঝলাম এটা আর কেউ নয় আগের দিনের দেখা বামেরা সন।বাকি সব গাড়ির সাথে আমরাও অপেক্ষা করতে লাগলাম।সন্ধ্যে হবে হবে ঠিক ঐসময় দীপঙ্কর দা দুর্গেশকে বলে গাড়ি ঘুরিয়ে নে।দুর্গেশ বলে "দাদা ইয়ে এহিসে রোড ক্রস কারেগা"।তাও বলে ও ছাড় তুই গাড়ি ঘুরিয়ে নে।আমি ওনার কথায় কোনোদিন কিছু বলিনি কিন্তু সেদিন প্রথম বিরোধিতা করেছিলাম।কিন্তু আমার কথাও ভ্রূক্ষেপ না করে বলে তুই চুপ কর।
সেদিন খুব রাগ হয়েছিলো ওনার ওপর।আমাদের গাড়িটা ছিলো প্রথম ৫/৬ টা গাড়ির পরে।রোড ক্রস করলে বেশ ভালোভাবেই দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো।
যাইহোক আমাদের গাড়ি স্টার্ট দিয়ে যখন বাকি সব গাড়িকে পিছনে চলে এলো ঠিক সেই সময় দীপঙ্কর দা বললো এইখানে সাইড করে গাড়িটা লাগা।কিছুই বুঝলাম না,ছিলাম একদম প্রথম সারিতে এখন এসে পড়লাম সবার শেষে গোটা ৩০ এক গাড়ির পিছনে।
মাথা প্রচন্ড গরমে ক্যামেরা বন্ধ করে বসে পড়লাম।
কিছুক্ষণ পর দেখি পিছন দিক থেকে বেশ কিছু আওয়াজ আসছে।বুঝলাম তিনি জল থেকে উঠেছেন।
কিন্তু আমার আর কি আমি তো তার লেজ টুকুও দেখতে পাবোনা।
কিন্তু একি সব গাড়ি গুলো ঘুরিয়ে আমাদের দিকে আসছে কেন??
ওমা তারপর দেখি সে গতিপথ পরিবর্তন করে আমাদের দিকে আসছে,মানে রাস্তা ক্রস করলে আমাদের গাড়ি হবে সবার সামনে।
চোখের পলকে সব গাড়ি আমাদের পিছনে এসে হাজির হলো।
তাকেও আসতে আসতে আমাদের দিকেই আস্তে দেখছি।
এতো আমার স্বপ্ন।
ডমিনেন্ট মেল টাইগার,রোড ক্রস আর আমার গাড়ি ফার্স্ট। উউফফফফ
স্টেনগান রেডি করলাম,এইবার গুলি বর্ষণের সময়।
একদম ৪/৫ ফুটের দূরত্বে যখন এলো তখন বুঝলাম আমার কালকের অনুমান ভুল ছিলো।কাল যা আন্দাজ করেছিলাম তার থেকে অনেক বড়ো।বিশাল সাইজ।প্রথম বুঝলাম কেন টাইগারের হাঁটা কে রয়্যাল ওয়াক বলে।
আমি সামনে ছিলাম,উত্তেজনায় দাড়িয়ে পরে ছবি তোলার ফলে দীপঙ্কর দা একটাও ভালো ছবি পায়নি 😥😥
আমার কিন্তু এখনো নিজেকে সেই ঘটনার দোষী মনেহয়।
ফেরার পথে জিগ্যেস করেছিলাম গাড়িটা কি ভেবে আপনি সবার উল্টো দিকে নিয়ে গিয়ে দাড় করিয়েছিলেন? বলেছিলেন
"আমার মনেহয় এতগুলো গাড়ির হই হট্টগোলের সামনে দিয়ে রোড ক্রস করবেনা, করলে পিছনের রাস্তা টাই ধরবে।আর তাছাড়া ৫/৬ টা গাড়ির পিছনে থেকে খুব একটা ভালো ছবি পেতিস না"
নিজের পিঠ চাপড়ে বললাম ঠিক লোকের ঘাড়েই তুই চেপেছিস 🤣🤣

আমি আর একবার বুঝলাম একটা আনাড়ি আর একটা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকের মধ্যে পার্থক্য টা ঠিক কোথায়।

জঙ্গল আমাকে আর একবার বোঝালো তুমি কিছুই জানোনা,কচি শিশু তুমি।
মনে মনে বললাম এই জানার জন্যই তো তোমার কাছে আরও বহুবার ছুটে আসবো।

সেদিনের ঘটনার জন্য ক্ষমা করবেন
Dipankar দাদা 🙏🙏🙏🙏

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *